প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Jul 29, 2026
দৌলতখানে সাপের ছোবলে বাবলুর মৃত্যুতে পরিবারের পাশে দৌলতখানের কৃতি সন্তানবৃন্দ
মোঃ আওলাদ হোসেন,
বিশেষ প্রতিনিধি
সাপের কামড় খাওয়া সেই জেলের মৃত্যু, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন অনেকে।
বাবুলের মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী ও সন্তানের হাতে অর্থসাহায্য তুলে দেন সমাজ সচেতন নাগরিক।
বিষধর সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়া দরিদ্র জেলে বাবলু মারা গেছেন। গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সোস্যাল মিডিয়ায় বাবলুর বিষয়ে খবর প্রকাশের পর অনেকেই তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
অর্থের অভাবে বাবলুর চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন স্ত্রী সুরমা বেগম। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন সুরমা বেগম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অসহায় জেলে বাবলুকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। এরই মধ্যে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে বাবলুর মৃত্যু হয়।
বাবলু দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামত আলী বাড়ির মৃত আহমদ আলীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে যান।
বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি আলোচনায় আসলে অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
তাঁদের মধ্যে একজন হলেন দৌলতখানের দক্ষিন জয়নগর ইউনিয়েনের কৃতি সন্তান এমেরিকার নিউইয়র্ক প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ,সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দপুরের আঃ মান্নান, দৈনিক আজকের ভোলার প্রতিনিধি, সমাজ সেবক,দৌলতখান হাজিপুর ইসলামিয়া কামিল (এম.এ)মাদরাসার রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর প্রভাষক মোঃ আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাবলুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী সুরমা বেগমের হাতে সহায়তার টাকা তুলে দেন
দৈনিক আজকের ভোলার প্রতিনিধি, সমাজ সেবক,দৌলতখান হাজিপুর ইসলামিয়া কামিল (এম.এ)মাদরাসার রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর প্রভাষক মোঃ আওলাদ হোসেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সৈয়দপুর ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি জনাব তামজিদ হোসেন,বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের জনশক্তি মোঃ নাহিদ প্রমুখ।
সহায়তার অর্থ পেয়ে বাবলুর স্ত্রী সুরমা বেগম বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই টাকা আমার ধারদেনা পরিশোধসহ আমি ও আমার দুই সন্তানের জীবনে চলার পথে অনেক উপকারে আসবে।’
নিউইয়র্ক প্রবাসী আবুল কালাম আজাদ বলেন আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারি, আমার এলাকার এক লোক বাবলুকে সাপে কামড়েছে। অথচ চিকিৎসা হচ্ছে না, এটা তো হতে পারে না। আমার কাছে বিষয়টি খারাপ লেগেছে। পরে জানলাম, অসহায় দরিদ্র সেই বাবলু মারা গেছে। তখন চিন্তা করলাম, তার জন্য আমাদের কিছু করা দরকার। তাই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি পরিবারটির জন্য সহযোগিতা করতে। মানবিকতার কারণে আমি বাবলুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। যতটুকু সম্ভব, ভবিষ্যতেও তার পরিবারের খোঁজখবর রাখব।’ তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। তারা আশা প্রকাশ করে—সমাজের অন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসবেন।
দুবাই প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দপুরের কৃতি সন্তান আঃ মান্নান বলেন বিষয়টি আমার বন্ধু প্রভাষক আওলাদের কাছ থেকে জেনে খুবই খারাপ লেগেছে। তাই মানবিকতার টানে অসহায় বাবলুর পরিবারকে সামর্থ অনুযায়ী কিছু হাদিয়া দিয়েছি।সমাজপতিদের উচিত এসব কাজে বেশী বেশী অবদান রাখা।
দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, ‘আমি জেনেছি, সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর অসহায় দরিদ্র জেলে বাবলুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জানলাম, তিনি মারা গেছেন। আমরা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখব। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়, সেটা বিবেচনায় নেব।’